বাংলা সাহিত্যের যুগভাগ (সংক্ষেপ)
১) আদি যুগ: ৬৫০–১৩৭৫ খ্রি.
২) মধ্যযুগ: ১৩৭৫–১৮০০ খ্রি.
⭐ আদি যুগের সাহিত্য
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন—ধর্ম, আখ্যান ও চর্যাপদের উপর ভিত্তি করে।
১) চর্যাপদ (৭ম–১২শ শতক)
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ।
বৈশিষ্ট্য: বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মমত, গানের আকারে লেখা, সাংকেতিক ভাষা।
➤ প্রধান কবি (সিদ্ধাচার্য)
-
লুইপা
-
কুক্কুরীপা
-
শবরপা
-
তিলোপা
-
ভুসুকুপা
-
ধূপশ্রী
-
কানুপা (চণ্ডীদাস)
-
ধর্মদাস
-
শ্রীধর
-
সরহপা
-
বোলিনন্দি
✦ চর্যাপদের ভাষা হলো প্রাকৃত-আপভ্রংশ থেকে গঠিত প্রাচীন বাংলা।
২) বৈষ্ণব পদাবলি কাব্য (১৩শ–১৪শ শতক থেকে শুরু)
ঐশ্বর্যের চেয়ে ভক্তি ও প্রেম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
প্রধান কবি:
-
বিদ্যাপতি (মৈথিল কবি, বাংলার উপর গভীর প্রভাব)
-
চণ্ডীদাস (অধিকাংশ গবেষণায় “বরু চণ্ডীদাস”কে আসল লেখক বলা হয়)
-
দীনেশচন্দ্র সেনের মতে—“চণ্ডীদাস বাংলা সাহিত্যের প্রথম বৈষ্ণব কবি”।
৩) মঙ্গলকাব্য (১২শ–১৩শ শতক থেকে শুরু)
বাংলার লোকায়ত দেবদেবীকে কেন্দ্র করে রচিত আখ্যান ভিত্তিক কাব্য।
প্রধান কবি ও তাদের কাব্য
-
বিজয়গুপ্ত – মনসামঙ্গল
-
নরসিংহ দাস – মনসামঙ্গল
-
বাণেশ্বর – চণ্ডীমঙ্গল
-
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবি মুকুন্দ/কবি গুণ্ডা) – চণ্ডীমঙ্গল
-
কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ – ধর্মমঙ্গল
-
রায়মঙ্গল – অজ্ঞাত
⭐ মধ্যযুগের সাহিত্য
(১৩৭৫–১৮০০) — তিনটি প্রধান ধারা:
(১) বৈষ্ণব সাহিত্য (২) মঙ্গলকাব্য (৩) মুসলমান কবিদের সাহিত্য
এছাড়া আছে অনুবাদ সাহিত্য, রামায়ণ-কৃষ্ণকাব্য, সুফি সাহিত্য।
⭐ মধ্যযুগ (১৩৭৫–১৮০০) — বিস্তারিত
১) বৈষ্ণব পদাবলি (শ্রীচৈতন্য-প্রভাবিত যুগ)
প্রধান কবি:
-
জ্ঞানদাস
-
গোবিন্দদাস
-
বংশী দাস
-
রামচন্দ্র বসু
-
লোচন দাস
-
রূপ গোস্বামী
-
সনাতন গোস্বামী
✦ প্রেম, ভক্তি, রাধা-কৃষ্ণের লীলা—এই সাহিত্যর কেন্দ্রবিন্দু।
২) মঙ্গলকাব্য (চূড়ান্ত বিকাশ মধ্যযুগে)
গুরুত্বপূর্ণ কবি:
-
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী – চণ্ডীমঙ্গল
-
কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ – ধর্মমঙ্গল
-
রায়মঙ্গল – অজ্ঞাত
-
বিজয়গুপ্ত – মনসামঙ্গল
৩) মুসলমান কবিদের সাহিত্য (সুলতানী ও মোগল আমল)
সুফিবাদ, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা, লোককাহিনী—এগুলোর মিশ্রণে সাহিত্য।
প্রধান কবি:
-
শেখ ফয়জুল্লাহ – যুথিকা
-
দৌলত উজির বাহরাম খান – লাইলী-মজনু
-
সৈয়দ আলাওল (সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য)
-
পদ্মাবতী (মালিক মুহাম্মদের পদ্মাবৎ এর অনুবাদ)
-
সাতিমা
-
-
মীর মশাররফ হোসেন (পরবর্তীকালের, কিন্তু মুসলমান সাহিত্যধারা প্রভাবিত)
-
নুরুল্লাহ – সয়ফুল মুলুক বদিউজ্জামাল
৪) অনুবাদ সাহিত্য (রামায়ণ, মহাভারত, কৃষ্ণকাব্য)
প্রধান কবি:
-
কৃত্তিবাস ওঝা – কৃত্তিবাসী রামায়ণ
-
কেশব সেন – কৃষ্ণকাব্য
-
শ্রীধর দাস – মহাভারত অনুবাদ
⭐ আদি ও মধ্যযুগের সাহিত্যর বৈশিষ্ট্য (সংক্ষেপ)
✔ ধর্মীয় প্রভাব (বৌদ্ধ, বৈষ্ণব, সুফি)
✔ কাব্যই প্রধান সাহিত্য
✔ লোকায়ত ভাষা, সহজ ছন্দ
✔ রাধা–কৃষ্ণ প্রেম, দেব-দেবীর আখ্যান
✔ আখ্যানধর্মী ও গীতধর্মী কবিতা
⭐ পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ২০টি তথ্য (একদম মুখস্থযোগ্য)
-
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন — চর্যাপদ
-
চর্যাপদের ভাষা — প্রাকৃত-আপভ্রংশজাত প্রাচীন বাংলা
-
চর্যাপদের কবি — সিদ্ধাচার্য
-
মনসামঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি — বিজয় গুপ্ত
-
চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি — মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
-
প্রথম বৈষ্ণব কবি — চণ্ডীদাস
-
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলমান কবি — সৈয়দ আলাওল
-
বৈষ্ণব পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি — গোবিন্দদাস
-
বাংলা রামায়ণের রচয়িতা — কৃত্তিবাস ওঝা
-
প্রেম-ভক্তির আধুনিকতা — বিদ্যাপতি
-
চর্যাপদকে উদ্ধার করেন — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭)
-
বাংলাদেশের প্রাচীনতম পুঁথি — ময়মনসিংহ গীতিকা (লোকগান)
-
মুসলমান কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য — সুফি-প্রেম-আধ্যাত্মিকতা
-
ধর্মমঙ্গলের কবি — কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
-
পদাবলি সাহিত্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র — রাধা-কৃষ্ণ
-
মধ্যযুগের প্রধান তিন ধারা — বৈষ্ণব, মঙ্গল, মুসলমান সাহিত্য
-
শ্যামাসঙ্গীতের প্রাচীন ভিত্তি — বৈষ্ণব পদাবলি
-
বারো মাসের রচনা — বিদ্যাপতি
-
চৈতন্যভাগবত — বৃন্দাবন দাস
-
চৈতন্যচরিতামৃত — কৃষ্ণদাস কবিরাজ
কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন